Dhaka ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মেঘনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ শ্রমজীবীর, স্বজনদের আহাজারিতে ভারি বাতাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩৬ Time View

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ভোলার ৪ জন শ্রমজীবী যাত্রী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাইমচরের হরিণাঘাট এলাকায় এমভি অ্যাডভেঞ্চার-০৯ এবং এমভি জাকির সম্রাট-০৩ লঞ্চের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও ৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন— লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ গ্রামের রাজমিস্ত্রি আবদুল গণি (৩৮) ও দিনমজুর মো. সাজু (৪৫), একই উপজেলার কচুয়াখালী গ্রামের পোশাক শ্রমিক রিনা বেগম (৩৫) এবং চরফ্যাসন উপজেলার আহমদপুর গ্রামের মো. হানিফ (৬০)। তারা সবাই জীবিকার তাগিদে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-০৩ লঞ্চটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা ঝালকাঠিগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-০৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয়। কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘর্ষে জাকির সম্রাট লঞ্চটির একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। লালমোহনের কাজিরাবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুর আবদুল গণির স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা গণি ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী লাইজু বিবি। তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের চালকের অবহেলাকে দায়ী করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় ঢাকা যাচ্ছিলেন বর্গা চাষি সাজু খা। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামবাসী ও স্বজনরা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ভোলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নৌ-পথে চলাচলে আরও সতর্কতা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

মেঘনায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ শ্রমজীবীর, স্বজনদের আহাজারিতে ভারি বাতাস

Update Time : ১২:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ভোলার ৪ জন শ্রমজীবী যাত্রী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাইমচরের হরিণাঘাট এলাকায় এমভি অ্যাডভেঞ্চার-০৯ এবং এমভি জাকির সম্রাট-০৩ লঞ্চের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও ৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন— লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ গ্রামের রাজমিস্ত্রি আবদুল গণি (৩৮) ও দিনমজুর মো. সাজু (৪৫), একই উপজেলার কচুয়াখালী গ্রামের পোশাক শ্রমিক রিনা বেগম (৩৫) এবং চরফ্যাসন উপজেলার আহমদপুর গ্রামের মো. হানিফ (৬০)। তারা সবাই জীবিকার তাগিদে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-০৩ লঞ্চটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা ঝালকাঠিগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-০৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয়। কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘর্ষে জাকির সম্রাট লঞ্চটির একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। লালমোহনের কাজিরাবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুর আবদুল গণির স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা গণি ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী লাইজু বিবি। তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের চালকের অবহেলাকে দায়ী করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় ঢাকা যাচ্ছিলেন বর্গা চাষি সাজু খা। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামবাসী ও স্বজনরা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ভোলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নৌ-পথে চলাচলে আরও সতর্কতা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।