Dhaka ০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫০৭ জনের: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩৩ Time View

গত নভেম্বর মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ সময়ে ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৭ জন নিহত এবং ৮৯৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বহুল প্রচারিত ও নির্ভরযোগ্য জাতীয়, আঞ্চলিক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। নৌপথে সংঘটিত ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হন এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৩৩ জনের, আহত হয়েছেন ৯০০ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১৫৫টি দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত ও ২৫৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৮৯ জন আহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মোটরসাইকেল। মাসজুড়ে ১৯৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০১ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত মোট ৭৪৬টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ছিল সর্বাধিক (৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ)। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ, বাস ১৩ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৩ শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা ৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

নিহত ও আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশু, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার, রাতে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, দক্ষ চালক তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস নিশ্চিত করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫০৭ জনের: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

Update Time : ০৪:৫৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

গত নভেম্বর মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ সময়ে ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৭ জন নিহত এবং ৮৯৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বহুল প্রচারিত ও নির্ভরযোগ্য জাতীয়, আঞ্চলিক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলপথে ৪৪টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। নৌপথে সংঘটিত ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হন এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৭৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৩৩ জনের, আহত হয়েছেন ৯০০ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১৫৫টি দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত ও ২৫৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৮৯ জন আহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মোটরসাইকেল। মাসজুড়ে ১৯৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০১ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত মোট ৭৪৬টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ছিল সর্বাধিক (৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ)। এছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ, বাস ১৩ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৩ শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা ৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

নিহত ও আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশু, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার, রাতে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, দক্ষ চালক তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ, যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস নিশ্চিত করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ।