Dhaka ০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

হাদিশূন্য গ্রামবাড়িতে শোকের ভিড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০০ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা। হাদি নেই—এ শূন্যতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার বসতভিটায়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে চেনা-অচেনা মানুষের ঢল নেমেছে গ্রামে। একই দৃশ্য বিরাজ করছে তার শ্বশুরবাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জেও।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। গুলিটি তার মাথায় লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে তিনি মারা যান।

১৯৯৩ সালে নলছিটি পৌরসভার খাসমহল এলাকার একটি টিনশেডের ঘরে জন্ম নেন সৈয়দ শরিফ ওসমান হাদি। বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ও মা তাসলিমা হাদির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হলেও ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী ও সচেতন কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন হাদি। নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

গ্রামবাসীর কাছে হাদি কেবল একজন মানুষ নন, বরং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের একজন প্রতীক হিসেবেই তাকে দেখতেন অনেকে। তাই তার আকস্মিক মৃত্যুতে কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না বাস্তবতা। কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না, আবার কেউ নীরবে শোকে ভেঙে পড়ছেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই হাদির বাড়ির সামনে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। বাড়িতে থাকা তার বোনকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না আগতরা। কেউ স্মৃতিচারণ করছেন, কেউ আবার হাদি হত্যার বিচার দাবি করছেন।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হাদির শেষ ইচ্ছা ছিল বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করার। তবে দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

হাদিশূন্য গ্রামবাড়িতে শোকের ভিড়

Update Time : ০৪:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা। হাদি নেই—এ শূন্যতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার বসতভিটায়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে চেনা-অচেনা মানুষের ঢল নেমেছে গ্রামে। একই দৃশ্য বিরাজ করছে তার শ্বশুরবাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জেও।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। গুলিটি তার মাথায় লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে তিনি মারা যান।

১৯৯৩ সালে নলছিটি পৌরসভার খাসমহল এলাকার একটি টিনশেডের ঘরে জন্ম নেন সৈয়দ শরিফ ওসমান হাদি। বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ও মা তাসলিমা হাদির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হলেও ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী ও সচেতন কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন হাদি। নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

গ্রামবাসীর কাছে হাদি কেবল একজন মানুষ নন, বরং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের একজন প্রতীক হিসেবেই তাকে দেখতেন অনেকে। তাই তার আকস্মিক মৃত্যুতে কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না বাস্তবতা। কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না, আবার কেউ নীরবে শোকে ভেঙে পড়ছেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই হাদির বাড়ির সামনে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। বাড়িতে থাকা তার বোনকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না আগতরা। কেউ স্মৃতিচারণ করছেন, কেউ আবার হাদি হত্যার বিচার দাবি করছেন।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হাদির শেষ ইচ্ছা ছিল বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করার। তবে দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।