Dhaka ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার শীতে সবজির জোগান থাকলেও কমছে না দাম রংপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রংপুরে এলপিজি সংকট, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার খরচের চাপে ভাঙছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ডলার সংকটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও মুল্যস্ফীতির চাপ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের জীবন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত ১০৯ নিরাপত্তা সদস্য নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর হবে: ইইউ প্রতিনিধিদলকে প্রধান উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থার সাথে এগিয়ে চলছে দৈনিক বঙ্গচিত্র। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

১৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত: গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় দিন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩০ Time View

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর চেঙ্গীনদী বিধৌত খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়ি ও বাঙালি—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়ে এই অঞ্চলের মুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এই দিনে তৎকালীন মহকুমা এবং বর্তমান জেলা খাগড়াছড়ি শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন খাগড়াছড়ি অঞ্চলের সাব-ডিভিশন কমান্ডার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী বেলা ১১টায় তৎকালীন খাগড়াছড়ি মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত হয়।

এর পর থেকে প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়ে আসছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় একটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি রেখে ক্যাপ্টেন অশোক দাসগুপ্ত ও দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা খাগড়াছড়ি সদরের দিকে অগ্রসর হন। কুকিছড়া পেরিয়ে গাছবান এলাকায় পৌঁছালে পাহাড়ের উঁচু স্থান থেকে পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা গুলি ছোড়ে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

পরদিন সকালে ক্যাপ্টেন অশোক দাসগুপ্তের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভাইবোনছড়া থেকে খাগড়াছড়ি সদর পর্যন্ত পুরো এলাকা শত্রুমুক্ত করেন। এরপর তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িকে মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২৭ এপ্রিল মহালছড়িতে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগে পরে মহালছড়িতে চিত্তরঞ্জন চাকমাসহ চার পাহাড়ি নাগরিককে হত্যা করে পাকবাহিনী। এসব ত্যাগ ও আত্মদানের স্মরণে খাগড়াছড়িতে ১৫ ডিসেম্বরকে হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

Popular Post

রেট গ্যাপ ও ব্যাংকিং ঝামেলায় মিরসরাইয়ে হুন্ডিমুখী প্রবাসী পরিবার

১৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত: গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মরণীয় দিন

Update Time : ০৪:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর চেঙ্গীনদী বিধৌত খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়ি ও বাঙালি—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়ে এই অঞ্চলের মুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এই দিনে তৎকালীন মহকুমা এবং বর্তমান জেলা খাগড়াছড়ি শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন খাগড়াছড়ি অঞ্চলের সাব-ডিভিশন কমান্ডার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী বেলা ১১টায় তৎকালীন খাগড়াছড়ি মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত হয়।

এর পর থেকে প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়ে আসছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় একটি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি রেখে ক্যাপ্টেন অশোক দাসগুপ্ত ও দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা খাগড়াছড়ি সদরের দিকে অগ্রসর হন। কুকিছড়া পেরিয়ে গাছবান এলাকায় পৌঁছালে পাহাড়ের উঁচু স্থান থেকে পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা গুলি ছোড়ে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

পরদিন সকালে ক্যাপ্টেন অশোক দাসগুপ্তের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভাইবোনছড়া থেকে খাগড়াছড়ি সদর পর্যন্ত পুরো এলাকা শত্রুমুক্ত করেন। এরপর তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িকে মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২৭ এপ্রিল মহালছড়িতে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগে পরে মহালছড়িতে চিত্তরঞ্জন চাকমাসহ চার পাহাড়ি নাগরিককে হত্যা করে পাকবাহিনী। এসব ত্যাগ ও আত্মদানের স্মরণে খাগড়াছড়িতে ১৫ ডিসেম্বরকে হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।